কলকাতার বিনোদন জগতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা ও ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে ফের মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যের পাশাপাশি, সঠিক বিচার ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করে দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন ঋতাভরী। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পিটিশন জমা দেন তিনি।
দীর্ঘ সময় নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি অনেক বেশি ভীত ছিলেন। অভিযোগ করলে উল্টো তাকেই দায়ী করা হতে পারে কিংবা তার অভিযোগের কারণে কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে-এমন আশঙ্কা ছিল তার।
তবে ওই সময়ের ঘটনাগুলোর কোনো প্রমাণ তিনি নষ্ট করেননি বলেও জানান ঋতাভরী। তার দাবি, আপত্তিকর বার্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রমাণ এখনো তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
বর্তমানে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, অন্যায় বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা হলে তিনি আর চুপ থাকবেন না। তার ভাষায়, এখন তার জীবনে এমন একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ তার গায়ে হাত দিলে বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করলে তিনি এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাউকে হেয় করার জায়গা কিংবা ‘ট্রায়াল গ্রাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে নন ঋতাভরী। তার মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও একই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কেরালার আলোচিত হেমা কমিটির প্রতিবেদনের আদলে বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পেও কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর নবান্নে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেন ঋতাভরী।
অভিনেত্রীর দাবি, ওই বৈঠকে বিচারপতি, পুলিশ, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। টলিউডে নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও সেখানে আলোচনা হয়।
ঋতাভরী আরও জানান, বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিয়েছেন। তার অবস্থান স্পষ্ট-সঠিক বিচার এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি।
২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ মেগার মাধ্যমে পরিচিতি পান ঋতাভরী চক্রবর্তী। বর্তমানে তিনি বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। ‘বহুরূপী’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ও ‘ফাটাফাটি’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বাংলা সিনেমার বাইরেও ‘পরী’ ও ‘নেকেড’-এর মতো কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রের অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন ঋতাভরী চক্রবর্তী।
জ/উ