বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘাইছড়িতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদ্যাপিত বুকে পাঁ দিয়ে যুবক কে নির্যাতন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান উলিপুরে তিস্তা নদীতে ডুবে এক ব্যক্তি নিখোঁজ ফরিদপুরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই কমেছে বকশীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে একজন আটক কাল পূর্বাচলে নবনির্মিত প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইতালীয় ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত: রিজভী মোংলায় নিজ কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক পিতা গ্রেফতার মাইক্রোবাস ও ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৫ জন আহত ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলেই ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি’ টিকা নিবন্ধনে বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর নির্ধারণ মতলবে পানিতে ডুুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু তিস্তা ব্যারেজের ৫২টি গেট খুলে দিলো ভারত, রেড অ্যালার্ট জারি আখাউড়ায় নানা আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত দামেস্কে সেনা বাসে বোমা হামলায় নিহত ১৩ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে সরকার ফায়দা লুটতে চায়- আ স ম আবদুর রব বাংলাদেশকে ২১৪ কোটি টাকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র এসকে সিনহাসহ ১১ জনের মামলার রায় বৃহস্পতিবার

হালদার ভাঙন : তলিয়ে যাচ্ছে পাউবোর ১৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
হালদাহ ভাঙন : তলিয়ে যাচ্ছে পাউবোর ১৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর ভাঙন ঠেকাতে ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় নদীটির দুই তীরে স্থাপন করা হচ্ছে সিসি ব্লক।এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ পুরো শেষ হয়নি, এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে ফাটল।দেবে ও সরে গেছে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বসানো সিসি ব্লক।প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এভাবে ব্লক দেবে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, নদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ, বাঁধের ভাঙন ঠেকাবে কে? এছাড়া বাইরে থেকে মাটি কিনে খালের বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।এক্সক্যাভেটর দিয়ে নদী- খালের কাছাকাছি ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পাশাপাশি চাষের সক্ষমতা হারিয়েছে জমিগুলো।

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকল্পের প্রতি কিউবিক ঘনফুট মাটির জন্য ১৭ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের কোন টাকা না দিয়ে জমির মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে ঠিকাদার। তাছাড়া ওইসব জমি থেকে নিয়ম না মেনে মাটি কাটা হয়েছে। ফলে ওইসব জমিতে আর কোন চাষাবাদ করা যাবে না।এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। কিন্তু কোন সুরাহা মিলেনি বলে জানান তারা।

পাউবো সূত্রমতে, হালদা ও ধুরুং খালে মাটি এবং সিসি ব্লকে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মোট ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে-৪৬ কিলোমিটার মাটির বেড়িবাঁধ ও ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ। এর মধ্যে ৩৮ পয়েন্টে সিসি ব্লকের জন্য ১০৮ কোটি টাকা হালদা নদীতে এবং ১৩ পয়েন্টে ২৫ কোটি টাকা ধুরুং খালে বাকি টাকা বেড়িবাঁধের জন্য বরাদ্দ দেয় সরকার।

জানা গেছে, এসব প্রকল্পের মধ্যে হাটহাজারী-ফটিকছড়ি অংশে হালদায় ৪টি প্যাকেজ ও ফটিকছড়ির ধুরুং খালে একটি প্যাকেজের কাজ চলছে। হালদায় মোট ৫৮ পয়েন্টে এবং ধুরুং খালে ২৫ পয়েন্টে কাজ চলমান রয়েছে। হালদায় ৪ প্যাকেজের মধ্যে তিনটি ও ধুরুং খালে একটি প্যাকেজের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এহসান এন্ড জামান (জেবি)। হালদায় অপর একটি প্যাকেজে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং। এ পর্যন্ত হালদা ও ধুরুং খালে ৫ প্যাকেজ মিলে কাজ হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মিটার সিসি ব্লকের কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার। তবে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি অংশে কাজ শেষ করার আগেই নাজিরহাট নতুন ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম দু’পাশে সিসি ব্লকসহ ধসে হালদায় তলিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী ও কৃষকদের অভিযোগ, কাজ ঠিক মতো না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সমিতির হাট ইউনিয়নে ৭০০ মিটার সিসি ব্লকের কাজ সম্পন্ন হলেও সেখানেও দেখা দিয়েছে ধস। হালদার পূর্ব সুয়াবিল নাইচ্ছার ঘাট, জুগিনী ঘাট এলাকায় কৃষকের ধানি জমি থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে পুকুর সমান গভীর করা হয়েছে।ধানি জমি থেকে মাটি কাটার সময় বাঁধা দিলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধমক দেয় ঠিকানাদারের লোকজন। এমনকি কৃষকদের বলা হয়েছে এটি সেনাবাহিনীর প্রকল্প। এ কাজে বাধা দেওয়া যাবে না।

নাইচ্ছার ঘাটের কৃষক ফোরক আহমদ ও জসিম উদ্দীন বলেন, আমার ২০ শতক জমি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে শেষ করে দিয়েছে। এখন আর এই জমিতে চাষ করতে পারবো না। সরকারের মাটি বা জায়গা প্রয়োজন হলে অধিগ্রহণ করবে জানি। কিন্তু তা না করে ঠিকাদার আমাদেরকে সেনাবাহিনীর প্রকল্প বলে উল্টো ধমক দিয়ে মাটি নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী জানান, মাটি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে ঠিকাদারকে। এর জন্য বরাদ্ধ দেওয়া আছে। পরিবহন খরচও দেওয়া হচ্ছে ঠিকাদারকে।অকৃষি জমি থেকে মাটি কাটতে হবে। ধানি জমি নষ্ট করা যাবে না।বাঁধের ত্রিশ ফুট দুর থেকে মাটি কাটতে হবে। বাঁধের কাছাকাছি মাটি কাটা যাবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এহসান এন্ড জামানের (জেবি) মালিক মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাটি যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখান থেকে কাটা হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট হয়ে থাকলে সেটি আমি পরে দেখবো।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, ‘কাজে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কারণ ঠিকাদারের কাজগুলো খুব ভালো ভাবেই তদারকি করা হচ্ছে।’ কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকরা যদি মাটি না দেয় তাহলে ঠিকাদারের সাধ্য নেই কাটার। এটি কৃষকরা ঠিকাদারের সাথে বোঝাপড়া করবে। তবে আমরা প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ রেখেছি। সিসি ব্লক যেগুলো ধসে গেছে সেগুলো পূনরায় করে দিতে হবে ঠিকাদারকে।

উল্লেখ্য: ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সিসি ব্লক স্থাপনে ১৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের আওতায় সাত কিলোমিটার নদীতীরের দুই পাশে সিসি ব্লক স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের সার্বিক দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ছবির ক্যাপশন: কাজ শেষ হওয়ার আগেই হালদায় ধসে গেছে ফটিকছড়ির নাজিরহাট পুরাতন বিজ্র সংলগ্ন সিসি ব্লক।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: