বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লার কাছে ধরাশায়ী সাকিব-গেইলদের বরিশাল ফেনীতে ছাত্রদলের প্রতিকী অনশন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পুলিশের সেবাপ্রার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়: রাষ্ট্রপতি ঝিনাইগাতীতে অজগর সাপ উদ্ধার নাজিরপুরে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন ফেনীতে মাদকের মামলায় ২ নারীর যাবজ্জীবন বকশীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা ডাউনিং স্ট্রিটের পার্টি তদন্ত করছে ব্রিটিশ পুলিশ ভোলাহাটে সমবায় কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ভোলাহাটে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় আটোয়ারীতে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ মতলব উত্তরে যুবলীগ নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ মানিকগঞ্জ যুবলীগের উদ্যোগে শীর্তাতদের মাঝে কম্বল বিতরণ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে সভাপতি বাদশা ভাঙ্গুড়ায় মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা শিবগঞ্জে মাদ্রাসার সহকারী সুপার ৫দিন ধরে নিখোঁজ রাণীশংকৈলে ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার গলাচিপায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে ২ চোর আটক নিখোঁজ রিচার্ড ও শুভর সন্ধান চায় পরিবার

যশোর শিক্ষা বোর্ডের আরো আড়াই কোটি টাকা লোপাট

যশোর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি করে আরো দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা লোপাটের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ অডিটে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ে। ইতিমধ্যে বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে দুদককে অবহিত করেছে।
নতুন জালিয়াতির ১৬টি চেকের সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ১১টি চেকের জালিয়াতির সময় চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল আলীম এবং সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রফেসর তবিবার রহমান ও ড. মোল্লা আমীর হোসেন। অর্থৎ শুধু বর্তমান চেয়ারম্যান বা সচিব নয়, জালিয়াত চক্রটি গত ৫ বছর ধরে এই চেক জালিয়াতির সাথে যুক্ত। এর আগে প্রথমে ৯টি চেকে আড়াই কোটি টাকা এবং পরে আরো একটি চেকের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বোর্ডের ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ে।

সবমিলে এখনো পর্যন্ত যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক থেকে ২৬টি চেকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৮ টাকা আত্মসাত করার তথ্য ধরা পড়েছে।একটি সংঘবন্ধ চক্র দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি করে বোর্ডের ব্যাংক একাউন্ট খালি করে দিচ্ছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেছেন, ‘১৬টি চেক জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। বিষয়টি আমরা গত বৃহস্পতিবার দুদককে অবহিত করেছি।’ বোর্ডে সূত্রে জানা যায়, নতুন ধরা পড়া জালিয়াতির এই টাকা বোর্ডের দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বোর্ডের সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। কিন্তু সেই চেকের মাধ্যমে তুলে নেয়া হয় ৩০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ওই বছর ৭ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের ব্যাংক একাউন্টেই সেই টাকা জমা হয়। আর বর্তমানে হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম নিয়েছেন ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা। ২০২০ সালের ১ মার্চ ছয় হাজার ১৯৫ টাকার ইস্যু করা চেক জালিয়াতি করে তিনি ৪ মার্চ এই টাকা তুলে নেন।

৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চারটি চেক জালিয়াতি করেছে যশোর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক একাউন্টে গেছে চারটি চেকের মাধ্যমে ৩০ লাখ ১২ হাজার ৪৬৮ টাকা। এছাড়া, বিজনেস আইটি ১২ হাজার ২৭৬ টাকার চেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার ৮৩৪ টাকা, মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেস দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকার চেক দিয়ে চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ টাকা, নিহার প্রিন্টিং প্রেস দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকার চেকের মাধ্যমে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৩০ টাকা, সামিয়া ইলেকট্রনিক্স ৫৫ হাজার ৭৬২ টাকার চেকের মাধ্যমে ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৯০ টাকা, মিম প্রিন্টিং প্রেস ২০ হাজার ২৪০ টাকার চেকের মাধ্যমে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা, শাহীলাল স্টোর ১১ হাজার ১৯৯ টাকার চেকের মাধ্যমে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা, শরীফ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং দুই লাখ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকার চেকের মাধ্যমে চার লাখ ৬৪ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অর্পানেট নামে একটি প্রতিষ্ঠান দুইটি চেকের মাধ্যমে আত্মসাত করেছে সাত লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৬ টাকা। সূত্র বলছে, ধরা পড়া জালিয়াতির মধ্যে অর্থ আত্মসাতের প্রথমটি ঘটে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। এরপর থেকে এখনো পর্যন্ত মোট ২৬টি চেক জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে একাধিক চেয়ারম্যান ও সচিব দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে এসব চেকে একাধিক চেয়ারম্যান ও সচিব স্বাক্ষর করেছেন।

তবে বোর্ডের একটি সূত্র বলছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আসছে। চেয়ার‌্যমান বা সচিব পরিবর্তন হলেও তাদের অপতৎপরতা থামে না। মূলত এই সিন্ডিকেটের প্রধান বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বর্তমানে সহকারী সচিব আবুল কালাম আজাদ। যার নিজের একাউন্টেই জালিয়াতির মাধ্যমে একটি চেকে জমা হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা হয়েছে বলে এখনো পর্যন্ত ধরা পড়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম।

একাধিক সূত্রের দাবি, আবুল কালাম আজাদ সেকশন অফিসার হিসেবে ধীর্ঘ সময় ধরে কমন সার্ভিস শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি সেই হিসেবে বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় বদলীর সুপারিশ করতে তিনিই। জালিয়াতকালীন তিনি নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে নিজে যেমন কমন সার্ভিস শাখায় দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তেমনি সুকৌশলে হিসাব সহকারী আব্দুস সালামকে অডিট শাখায় বদলী করে রাখেন। এর আগেও কেনাকাটায় দুর্নীতির একটি বিষয় সমানে আসলে তিনি তার ‘নিজের লোক’ শেখ আব্দুর রফিককে কমন সার্ভিস শাখা হতে অডিট শাখায় বদলী করেন। আর আব্দুস সালামকে অডিট শাখা থেকে হিসাব প্রদান শাখায় বদলী করেন। ফলে অডিট ও হিসাব শাখা জালিয়াত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যারা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বোর্ডের চেক জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি স্বীকার করে একাধিক পে-অডারের মাধ্যমে লোপাট করা কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: