রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলার মাটি থেকে রাজাকারদের বিতাড়িত করবো: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে বিগ বসে’ কি ফিরবেন শেহনাজ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৩ ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ভিকি-ক্যাট এর কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন! জাওয়াদের প্রভাব : সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ আল-আকসায় থাই সুন্দরী উত্তেজনা জেরুজালেমে সাকিবকে রেখেই নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণা ওমিক্রনের মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে ভারত যবিপ্রবির প্রথম বর্ষ ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ বাংলাদেশে আবারো চালু হলো (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) হিলি ইমিগ্রেশন ও স্থলবন্দরে ওমিক্রন প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন এনবিআর চেয়ারম্যান শিবগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩ মরা গাছে টেন্ডারে তাজা গাছে করাত টঙ্গীতে হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ অন্ত:সত্ত্বা নারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১ রাজনৈতিক ইন্ধন আছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে : সেতুমন্ত্রী গরুর খামারে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ১৫টি গরু লুট গোয়ালন্দে ইয়াবাসহ আটক ২

মির্জাগঞ্জে তিন অসহায়ের গল্প

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
মির্জাগঞ্জে তিন অসহায়দের গল্প

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের তিন অসহায়দের গল্পঃ পলিথিনের ছাউনি ও ঝুপড়ি ঘরে চলছে তাদের বসবাস। এরকম ‘টোনা-টুনি’ নামে উপজেলার সকলের কাছে পরিচিত এই স্বামী-স্ত্রী দুই জন। তারা পেশায় ভিক্ষুক। নিজেদের কাজ করার ক্ষমতা নেই। আকারে স্বামী-স্ত্রী ছোট হলেও স্বামী কিছুটা মানসিক রোগীর মতো আচারন করেন। তাই তাদের কেউ কাজ দেয় না। আর স্বামী-স্ত্রী সাইজে এক হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে মিল-মহব্বত। আবার কেউ ঠাট্টা করে টোনা-টুনি বল্লেই স্বামী লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে তাকে মারার জন্য। উপজেলার সুবিদখালী সাপ্তাহিক হাটের দিন দেখা মিলে ভিক্ষা করার সময়ে তাদের। এরা হলো পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের টোনা নামে পরিচিত মো. হোচেন খা ও টুনি নামে পরিচিত ফরিদা বেগম। তাদের ঘরে কোন সন্তান নেই। এমনকি থাকার কোন ঘর নেই। একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কোন লাভ হয়নি বলে জানান ফরিদা বেগম।
এদিকে উপজেলার উত্তর গাবুয়া গ্রামের মো. শাহ আলম তাঁর স্ত্রী মোসাঃ শিউলী বেগম ও সন্তানদের নিয়ে পলিথিনের ছাউনি ও বাঁশের চাপা দিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। শাহ আলমের ডান চোখটি নেই। এরমধ্যে কয়েক বছর আগে গলায়(থাইনোট) ক্যান্সার হওয়াতে ওপারেশন করাতে হয়েছে। বর্তমানে ছোট্ট ছেলেটি হাত ভেঙ্গে ঘরে পড়ে আছে। টাকার অভাবে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারছে না। শাহ আলম বলেন, বড় ছেলেটা বউ নিয়ে ঢাকায় থাকায়। মেঝো ছেলেটাকে অনেক কষ্টে বিএ পাশ করেছে। ঢাকায় চাকরি করে যে টাকা পাঠায় তাতে সংসার চলে না,ঘর উঠাবো কেমন করে। এবারে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরে দুই বারে পলিথিন দিয়েছি তাতেও বৃষ্টির পানি থামাতে পারি না। নিজে কাজ করতে পারি না, ছেলের উপর নির্ভর করতে হয়। তার উপর ছোট ছেলেটার লেখা পড়ার খরচ তো আছেই। উপজেলার মির্জাগঞ্জ দরগাহ শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে বিধবা সুমতি রানী থাকেন পরিথিনের ছাউনি ঘরে। জমি বলতে বসত ঘরটুকু। মেয়েটাকে ধারদেনা করে বিবাহ দিয়েছেন কয়েক বছর আগে। মেয়ের বিবাহ দিলেও দেনার টাকা আজও পরিশোধ করতে পারেনি সুমতির ছেলেরা। ছেলে ঢাকায় কাজ করে মাকে যে টাকা পাঠায় এতে সুমতির রানীর একার সংসার চলে। প্রতিবারই ঘরের তালিকা তৈরী হলেও প্রকৃত দুঃস্থ ও অসহায়দের নাম বাদ পরে যায় নানা কারনে। এমটাই মনে করেন অনেকেই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের স্ত্রী,সন্তারদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। নেই তাদের মাথা গোজার ঠাঁই নাই। জমি থাকলেও নেই ঘর, তারা হতদরিদ্র মানুষ। তারা কেউ ভিক্ষা করে,কেউবা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালায়। এখন তাদের খুব কষ্টে চলে তাদের জীবন যাপন। একটি ঘরের আশায় দিন গুনছেন তারা। তাদের যাচাই-বাছাই করে তাদের একটা ঘর পেলে স্বামী-সন্তান বা কারো স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দরভাবে থাকতে পারবে এমনটাই মনে করেন তারা। এ বিষয়ে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. উজ্জল হোসেন বলেন, আসলেই শাহ আলম গরীব মানুষ। তাঁর একটি চোখ নেই। তার জন্য একটি ঘর খুবই প্রয়োজন। কাকড়াবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলাম মাষ্টার বলেন,আমার ইউনিয়নে যারা প্রকৃতি অসহায় তাদেরকে ঘর দেওয়ার তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। কোন অসহায় বা দুঃস্থ ব্যাক্তি বাদ যাবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ তানিয়া ফেরদৗস বলেন,বর্তমানে ঘর দেয়ার তালিকা চলমান আছে। দরখাস্ত পেলে যাচাই বাছাই করে হত দরিদ্রদের অবশ্যই ঘর পাবার ব্যবস্থা করবো।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: