রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আমাদের হুমকি দিয়েছিল: ডেভিড হোয়াইট তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ : তথ্যমন্ত্রী আরও তিন শাখা উদ্বোধন হলো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের খাদে পড়ল বাস ৩০ যাত্রী নিয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় : মির্জা ফখরুল দেশে করোনায় শনাক্ত নামল ছয় শতাংশের নিচে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাজার চর্চা নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়নে হাইকোর্টের রুল নিজ চার সন্তানকে বিষ খাইয়ে, আগুন পুড়ে আত্মহত্যাচেষ্টা মায়ের! মামলায় ‘পলাতক’, অথচ স্কুলের বেতন তুলছেন শিক্ষক রাণীশংকৈলে বীরঙ্গনা ঐক্য সংঘের সমাবেশ ইঁদুর মারার বিষকে চকলেট ভেবে খেয়ে শিশুর প্রাণ গেল বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত ২০ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বেঁড়া দিয়ে চাষাবাদ লোকালয়ে আসা হরিণ বনে ফেরত বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ আগামীকাল দেবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন, ঝুঁকিতে ৬ কেন্দ্র আত্রাইয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মিত হলো দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক ভোলায় গ্রাহকদের হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী অবশেষে তামিম মাঠে ফিরে এলেন

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সফল পাঁচ জয়িতার গল্প

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সফল পাঁচ জয়িতার গল্প

আমি শাহনাজ বেগম, স্বামী আইয়ুব আলী, পিতা আমির আলী, মাতা রহিমা বেওয়া, গ্রাম কয়রা, সদর মানিকগঞ্জ।
আজ থেকে ১০ বছর আগে স্বামী সন্তান নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটাতাম। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারতাম না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে দিনের পর দিন।
পরে বিভিন্ন সংস্থায় ট্রেনিং নিয়ে সেবামুলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছি।
আমি রোকসানা আক্তার, স্বামী-আবদুল কাদের, পিতা আবদুল মতিন বেপারী, মাতা রাশেদা বেগম, গ্রাম-বাঘিয়া, মানিকগঞ্জ সদর। আমি ছোট বেলা থেকেই অদম্য সাহস ও মনোবল নিয়ে বড় হয়েছি। ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের বাঘিয়া গ্রামে আমার বেড়ে ওঠা। বাবার ছোট ব্যবসার ওপর ছিল আমাদের সংসার ও ৫ ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ। তাই বাবার ওপর ভরসা না করে টিউশনী করে আমার লেখাপড়া খরচ নিজেই বহন করি। আমি বিএ পাশ করি। পরবর্তীতে আমার বিয়ে হলেও স্বামী সংসারের পাশাপাশি কলেজে ভর্তি হয়ে মাস্টার্স পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ভাইয়েরা লেখাপড়া করছে। পুর্বের তুলনায় আমদের সংসর ভালভাবেই চলছে।
আমাদের গ্রামে ও সমাজে এখন অনেক বেশী সম্মান পাই। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছি।

আমি জেসমিন আক্তার, স্বামী-শফিকুল ইসলাম, পিতা-সিরাজুল ইসলাম, মাতা- পারুল বেগম, গ্রাম- চামটা, সদর, মানিকগঞ্জ। ১৫ বছর আগে স্বামী-সন্তান নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতাম। অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারতাম না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে দিনের পর দিন। পরে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থায় আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষন নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হই। হাঁস-মুরগী পালন, গরুর খামার ও সবজির চাষ করে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছি। বাড়িতে দুটি আধাপাকা ঘর দিয়েছি। তিন বিঘা জমি কিনেছি। ক্ষেতে-খামারে ফসলের চাষ করে পূর্বের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি। অথচ আমার যখন বিয়ে হয় স্বামীর সংসারে খুব অভাব অনটন ছিল। আমার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক ছিল। অন্য জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালাত। বর্তমানে আমি এলাকায় সুপরিচিত অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী একজন নারী।

আমি রোজিনা বেগম ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় মা মারা যায়। আমরা চার ভাই বোন, বাবা দিনমজুর সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই ১২ বছর বয়সে আমি রাস্তায় কাজ শুরু করি। অভাবের তাড়নায় আমাকে বিয়ে দেয় এক দিনমজুরের সাথে। স্বামীর সংসারে এসে স্বামী শ্বশুর সবাই মিলে অনেক জ্বালাতন করত। পরে বাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। নিরুপায় আমি স্বামীর হাত ধরে চাচা শশুর বাড়ীতে আশ্রয় নিই। আমার স্বামী অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতো আর আমি পেটের ভাত জোগাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে লাগলাম।
কিছু টাকা জমিয়ে এবং একটি সংস্থা থেকে সুদে টাকা এনে একটি জমি কিনে ছাপড়া ঘর দিলাম। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আখের চাষ শুরু করলাম। আখের রস দিয়ে গুড় বানিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে সন্তানরা বড় হতে লাগল। আমি নিজে ছাগল মুরগি গরু পালন করে টাকা উপার্জন করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনে স্বামীকে বিদেশ পাঠালাম। ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির পল্লীসমাজ এর সভা প্রধান হিসেবে এলাকার সবাই আমাকে মান্য করে ভালবাসে। কষ্টের ভয়ে পিছিয়ে না থেকে কঠোর পরিশ্রম করে সৎ ভাবে এগিয়ে গেলে জীবনে সফলতা আসে। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমি।
আমি মমতাজ বেগম, স্বামী-মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মহীদুল্লাহ, গ্রাম- লেমুবাড়ি, সদর, মানিকগঞ্জ। ২০০২ সালে স্বামী হৃদরোগে মারা যায়। আমাদের প্রথম সন্তান জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে অনার্সে, দ্বিতীয় ছেলে জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ে অর্নাসে, তৃতীয় সন্তান ৮ম শ্রেনীতে ও চতুর্থ সন্তান ৫ম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়েই চারটি সন্তানকে মানুষ করেছি। প্রথম সন্তান ও তৃতীয় সন্তান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে শিক্ষকতা করছে। দ্বিতীয় সন্তান সহকারি কমিশনার (বিসিএস) প্রশাসন এবং চতুর্থ সন্তান সহকারি সার্জন বিসিএস হিসেবে কর্মরত আছে। আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা থাকা সত্বেও ছেলেদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করেছি। সফল নারী হিসেবে সমাজে গৌরব অর্জন করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ