বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য ডিসিদের প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের পর প্রকৃত মালিককে প্রদান ডিমলায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২ কুড়িগ্রামের সোনাভরি নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার কাপাসিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন! অভিনেত্রী শিমুকে খুন করেন স্বামী, লাশ গুম করে বাল্যবন্ধু জাকার্তা নয়, ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী ‘নুসানতারা’ ‘উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ডিসিরাও থাকবেন’ রুপগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় শিবগঞ্জে নবনিবার্চিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে মাসিক সভা খুলনায় মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ১ শিবগঞ্জের বিনোদপুর কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত শেরপুরে বৃদ্ধার মাথা ফাটানো সেই নাতনি-পুত্রবধূ গ্রেফতার হিলিতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে বইছে হিমেল বাতাস মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করুন : ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী অনুমতি না নিয়ে নিউজ করলে খুব খারাপ হবে! শ্রীবরদীতে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ক্যাম্প জামালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ফেরি স্বল্পতার কারণে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ভোররাতে সরকারি গাছ কাটতে গিয়ে স্থানীয়দের বাঁধা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

প্রায় ৪০ বছর বয়সী একটি মেহগনি গাছ। রাস্তার মোড়ে থাকা পৌরসভার গাছটি ছায়া দিয়ে আসছে গত ৪ দশক ধরে। গাছটির পশ্চিমদিকে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক একটি বেসরকারি হাসপাতাল। গাছটির অবস্থান চাকচিক্যে পরিপূর্ণ হাসপাতালটির মূল ফটকের সামনে হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা সমস্যা হয়। কিন্তু কি আর করার সরকারি জায়গায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার গাছ। তার উপর আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম আশ্রয়স্থল মেহগনির গাছটি। তাই চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গাছটি কাটতে পারেনি।
বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেহগনি গাছটি কাটতে গেলে বাঁধা দেয় স্থানীয়রা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে থাকা গাছটি স্থানীয়দের বাঁধার মুখে গাছটি কাটতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলা কাটতে না পেরে ভোররাতে গাছটি কাটতে শুরু করে ম্যাক্স হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।
ভোররাতেই মোড়ের দোকানদাররা বিষয়টি জানতে পেরে বাঁধা দিলে গাছ কাটা বন্ধ হয়। কিন্তু তার আগেই গাছের মূল দুটি ডাল কাটা হয়ে যায়। বুধবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি মূল ডালের খড়ি ও কাঠ সরিয়ে নিলেও তখনও একটি বড় ডাল পড়ে আছে। এমনকি হাসপাতালের দিকের সবচেয়ে বড় ডাল কেটে নেয়া হয়েছে।
গাছটির ছায়াতে আশ্রয় নিয়ে ডাবের ব্যবসা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের মসজিদপাড়ার ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগেও গাছের কয়েকটি বড় ডাল কাটা হয়েছে। আজ (বুধবার) ভোররাতে ম্যাক্স হাসপাতাল মিস্ত্রী ভাড়া করে গাছটি কাঁটা শুরু করে। দুটি বড় ডালও কাটা হয়ে যায়। পরে এখানকার দোকানদাররা জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে গাছ কাটা বন্ধ হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল, সকালের আগেই গাছটি কেটে ফেলার।
স্থানীয় বাসিন্দা চা দোকানী আব্দুর রাজ্জাক জানান, জন্মের পর থেকে গাছটি ৩ রাস্তার মোড়ে দেখছি। সরকারি রাস্তার মাটিতে পৌরসভার গাছ এটি। অথচ কয়েকমাস আগে ম্যাক্স হাসপাতাল হয়েছে। নিজেদের সুবিধার জন্য এতো বড় একটি গাছ কেটে সাবাড় করছে। অথচ আমরা জানি, সরকারি গাছ অনুমতি ছাড়া কেউ কাটতে পারে না। সেটা মরা গাছ হলেও না। অথচ জীবিত দীর্ঘদিনের গাছ কেটে নিচ্ছে।
মসজিদপাড়ার রিকসাচালক জুয়েল আলী বলেন, মেহগনির গাছের নিচে রিকসা নিয়ে অনেক রিকসাওয়ালা বিশ্রাম নিতো। কিন্তু ম্যাক্স হাসপাতাল হওয়াতে তা হয় না এখন। পুরো মোড়ের ছায়ার ব্যবস্থা হয় একটি গাছ থেকে। আমরা গাছটি কাটতে শুরু থেকেই বাঁধা দিচ্ছি। কারন এটি সরকারি গাছ। এর সুবিধা জনগণের নেয়ার অধিকার রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক বলেন, কয়েকদিন আগে বিদুৎ অফিসের লোকজন গাছের ডালপালাগুলো কেটে গেছে। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগের তার গাছটি থেকে অনেক দূরে। যেখানে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন গাছের মূল ডাল কাটতে যায়নি, সেখানে ম্যাক্স হাসপাতাল কিভাবে গাছ কাটতে যায়। শুধু নিজেদের সুবিধা দেখতে গিয়ে তারা খুব অন্যায় কাজ করেছে এবং স্থানীয় লোকজনকে হতাশ করেছে।
এবিষয়ে মুঠোফোনে ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, গাছটি পৌরসভার। তাই পৌর মেয়রের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছটির কিছু অংশ কাটা হয়েছে। এদিকে, ম্যাক্স হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি এবং এবিষয়ে কিছুই জানি না। এসময় মেয়রের সামনেই হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইসমাইল হোসেনকে ফোন দিলে তিনি আবারও বলেন, পৌর মেয়রের অনুমতি নেয়া হয়েছে। তবে তা পুনরায় অস্বীকার করেন মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: