শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে করোনায় আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৪৪০ মানিকগঞ্জে নারী হত্যায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার সুন্দরবনের রুপার খাল থেকে মৃত বাঘ উদ্ধার দিনাজপুরের হিলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস শেরপুরের হরিজনরা পাচ্ছেন ছয়তলা ভবন অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে  হিরন ও হমিদা এডুকেশনাল ট্রাস্ট দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কুড়িগ্রামে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস উজিরপুরে ব্রিজ ভেঙে ভেকুসহ লরি খালে ফেনী সমিতি ঢাকার উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের হামলায় ১০ সেনা নিহত ফেব্রুয়ারিতেই ইউক্রেনে হামলা করতে পারে রাশিয়া : বাইডেন হন্ডুরাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট জিওমারা কাস্ত্রো ঘরে ফিরে মুশফিকদের কাছে হারল চট্টগ্রাম ভোলায় বেগুন চাষে কৃষকদের মাঝে সাড়া ব্রাজিলকে রুখে দিল ইকুয়েডর এবারের আইপিএলের সব খেলা হবে এক শহরে! মেসি বিহীন জিতলো আর্জেন্টিনা রাজধানীতে ইয়াবা-হেরোইনসহ ৫৯ জন গ্রেফতার ইউক্রেন সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাষ্ট্র ভারতী এয়ারটেলে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ গুগলের

তিস্তায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে রেড এলার্ট জারি, বিভিন্ন বাঁধে ভাঙ্গন

নীলফামারী প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

উজানের পাহাড়ি ঢলে নীলফামারী ডিমলায় তিস্তা নদী বেষ্টিত এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। রেড এলার্ট (লাল সংকেত) জারি করে মানুষজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য ঘোষনা দেয়া হয়।বুধবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত নয়টায় এ পয়েন্টে পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার (৫২.৬০) ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও একই দিনের দুপুর ২ টায় ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো।
তিস্তার ভয়াবহ বন্যায় এলাকার হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। স্রোতে ভেসে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে অনেকের বসতবাড়ি, ফসল, ফসলি জমি, পুকুর, গাছ, রাস্তা-ঘাট, ভেঙ্গে পড়েছে পুল, কালভার্ট ও বাঁধ।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দশ হাজার পরিবার। বিশেষ করে বেশি ক্ষতিগ্রস্থের শিকার হয়েছে উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি খগাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন।

তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও তিস্তার পানি সামাল দিতে পারছেনা সংশ্লিষ্টতা। এতে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষায় উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ফ্লাড ফিউজ দুই তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সাথে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধার সাথে নীলফামারী জেলার সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।সেই পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুর ২টায় আরও ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও রাত ৯টায় আবারও ৬০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, এলাকার জিরো পয়েন্টে তিস্তার ডান তীর ও গ্রোয়িং বাঁধ হুমকীর মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রোয়িং বাঁধটির দুইশো মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হুমকিতে পড়েছে ডানতীর বাঁধ। এলাকার শত বসত বাড়ি তিস্তা নদীতে ভেসে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।

টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, পূর্ব দোহল পাড়ার দুটি বেড়িবাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই এলাকা সহ দোহল পাড়া, কিসামত চরের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনশো একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়। টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ। তিস্তা বাজার, তেলিরবাজার, দোলাপাড়া, চরখড়িবাড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। চরের ফসলের জমি সব পানির নিচে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষজন গবাদী পশু সহ নিরাপদে সরে গেছে।
খালিশাচাঁপানী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, কার্তিক মাসের এমন হঠাৎ বন্যা এলাকাবাসীকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। এলাকার ছোটখাতা, বাইশপুকুর, সুপারীপাড়া গ্রাম এখন নদীতে পরিনত হয়েছে।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ভেন্ডাবাড়ি ছাতুনামা ফরেষ্টের চর এলাকার এখন তিস্তা নদীর পানি বয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়িতে বুক সমান পানি।

এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি চরের ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়।
পানিবন্দী পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ সহ গবাদি পশু, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, বিদ্যুৎ চলাচলের রাস্তার অভাবে বিপাকে পড়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আগে কোনোরকম ঘোষণা দেয়নি যে বাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও পানি সামাল দেয়া যাচ্ছেনা। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেছে। যে কোন সময় তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ পুরো নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। আমরা তিস্তা অববাহিকায় লাল সংকেত দিয়ে মানুষজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলেছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: