মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে এসপি’র হস্তক্ষেপে থানায় মামলা! যশোরে চোরাই ইজিবাইকসহ আটক ৪ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই দেশের সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য দায়ী: ইনু মানিকগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন চকরিয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার ডিমলায় নিখোঁজের পাঁচদিন পর তিস্তা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা বিএনপি’রঃ নানক বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ইয়েন অনুদান দিচ্ছে জাপান এ মাসে প্রবাসী আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়ালো জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ডের আবেদনের সময় বাড়লো ভোলাহাটে ভেজাল আইসক্রীম কারখানায় র‌্যাবের অভিযান ৫৯ বিজিবি’র শিয়ালমারা সীমান্তে অভিযান ॥ ফেন্সিডিলসহ আটক ১ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৯০ জন রোগী ভর্তি অপারেশন শেষে আইসিইউতে খালেদা জিয়া উমরাহ পালনে আর ১৪ দিনের অপেক্ষা নয় ভারতের কেরালা রাজ্যে বন্যায় প্রাণহানিতে মোমেনের শোক বহিস্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ রৌমারীতে সার সংকটে কৃষক বিপাকে মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১, আহত ২

ঢাকায় পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

রিপোর্টারের নাম
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
ঢাকায় পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

ঈদুল আযহার ছুটির আমেজ এখনও শেষ হয়নি। তবে লকডাউনের ঘোষণায় রাজধানী ঢাকায় ফেরার হিড়িক লেগেছে কর্মজীবী মানুষদের। গ্রাম থেকে সঠিক সময় হিসেব করে রওয়ানা দিলেও সড়ক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ যাত্রী। রাতে কিংবা বিকেলে রওয়ানা দিয়েও লকডাউন কার্যকরের আগে ঢাকায় পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাজধানীতে ফেরা মানুষের ভোগান্তির চিত্র ছিলো চোখে পড়ার মতো। গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ি, উত্তরা থেকে সদরঘাট সবর্ত্রই ছিলো পায়ে হেঁটে গন্তব্যে ফেরার দৃশ্য। নারী, শিশু কিংবা বৃদ্ধ- কেউ রেহাই পাননি এমন ভোগান্তি থেকে। কেউ কেউ উপহাস করেই বলছেন, ‘গন্তব্য যখন ঢাকা, পা-ই একমাত্র ভরসা।’

নীলফামারী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি বলেন, কাল দুপুরে রওয়ানা দিয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তায় জ্যামের কারণে গাড়ি ঢাকার কাছাকাছি সাভারে আসতেই সকাল সাতটা বেজে গেলো। আমিনবাজার এলাকায় গাড়ি থামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তাই পায়ে হেঁটেই মগবাজারের মধুবাগে যাচ্ছি।

কী কারণে এতো তাড়াতাড়ি আসতে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা বায়িং হাউজে চাকরি করি। কিন্তু অফিস থেকে ঈদের ছুটির বাইরে কোনো ছুটি দেয়নি। চাকরি তো বাঁচাতে হবে। এজন্য এক প্রকার লড়াই করে আসতে হলো ঢাকায়।

অপর একজন যাত্রী আব্দুল কাইয়ুম দিনাজপুর থেকে ফিরছিলেন ঢাকায়। তিনিও পড়েছেন একই সমস্যায়। তিনি যে পরিবহনে করে ঢাকায় ফিরছিলেন সেটিও ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই লকডাউন কার্যকর হয়ে গেছে। তাই আমিনবাজার এলাকায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হিসেবে আরও দুদিন ছুটিতে আছি। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, সেখানে রবিবার থেকে জয়েন না করলে চাকরি চলে যাবে। তাই চাকরি বাঁচাতেই সব বাধা মাথায় নিয়ে ঢাকায় ফিরছি। তাও যদি শান্তিমতো ফিরতে পারতাম তাও হতো। পুরো রাস্তায় জ্যাম ছিলো। এখন আবার পায়ে হেঁটে যাচ্ছি বাসায়।

একই অবস্থা সদরঘাট এলাকায়। এখানেও লঞ্চ থেকে নামার পর নেই কোনো গণপরিবহন। দু’য়েকটা রিকশা পাওয়া গেলেও ভাড়া চাওয়া হচ্ছে দু-তিনগুণ।

সদরঘাট থেকে গাজীপুর যাবেন রিপন মিয়া। পরিবহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোলা থেকে কালকে সন্ধ্যায় লঞ্চে উঠেছি। আজকে সাতটায় সদরঘাটে নেমেছি। কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। যাবো গাজীপুরের গাছা এলাকায়। গার্মেন্টেস তিন দিনের বন্ধ দিয়েছিলো। এজন্য চলে এসেছি। শুনছি গার্মেন্টেসও চালু থাকবে না লকডাউনে। কিন্তু আমাদেরকে তো ছুটি দিলো না। ছুটি না দিলে তো অফিসে যেতেই হবে।

শুধু চাকরি বাঁচানোর জন্য নয়, কেউ কেউ অতি প্রয়োজনে, বিশেষ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে কষ্ট করে হলেও ঢাকায় এসেছেন।

সরকারি চাকুরিজীবী মো. সাজেদ বলেন, বাবা অসুস্থ। তিনি শ্যামলীর এটি হাসপাতালে ভর্তি। গতকাল খুলনা থেকে প্রাইভেটকারে করে উনাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। এখন হাসপাতালে ভর্তি। তাই বাবার চিকিৎসার স্বার্থেই নানা উপায়ে রংপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছি। আমিনবাজারে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ায় এখন পায়ে হেঁটে যাচ্ছি।

গাবতলী এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. ফয়সাল বলেন, যাত্রীরা আমাদেরকে জানিয়েছেন ফেরিতে দেরি হওয়ায় পথে দেরি হয়েছে। লকডাউন শুরুর আগে ঢাকায় পৌঁছাতে না পেরে আমিনবাজার এলাকায় গাড়িগুলো যাত্রী নামিয়ে দিয়েছে।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: