সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুসলিম হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ‘হারান’ ব্রিটিশ নারী এমপি অর্ধেক জনবলে চলবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, প্রজ্ঞাপন জারি চিত্রনায়িকা শাবনাজ করোনায় আক্রান্ত এরদোগানকে অপমান করার অভিযোগে তুর্কি সাংবাদিক কারাগারে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তে জব্দকৃত মাদক ধ্বংস ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার করোনায় আক্রান্ত যশোরে ট্রাক চোরকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ মানিকগঞ্জে এ,এম সায়েদুর রহমান স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু ফেনীতে করোনা উপসর্গে নারীর মৃত্যু মোংলা বন্দর জেটিতে রাবার ফেন্ডার স্থাপন চুক্তি স্বাক্ষর পীরগঞ্জে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হিলিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পথচারীকে জরিমানা মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত ১০ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ব্যবসায়ীদের দুটি ট্রলারে ডাকাতি হাকিমপুরে নাগরিক কমিটি গঠন যশোরে ২৪ ঘন্টায় ১ শ ৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত সোনাগাজীতে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রলীগের পানি বিতরণ পুতিনকে নিয়ে মন্তব্য, পদত্যাগ করেছেন জার্মান নৌবাহিনী প্রধান করোনা টিকা প্রতি বছর দেওয়ার নিয়ম চান ফাইজার সিইও

ছাগলনাইয়ায় প্রথম চাষেই বাম্পার ফলনে ব্রি ধান-৯০

ফেনী প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ছাগলনাইয়া চলতি আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাঠে কৃষক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯০। মাত্র ৩৩ শতক জমিতে চাষ করা এ উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতের সুগন্ধি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চিকন দানার এ সুগন্ধি ধানে হেক্টর প্রতি উৎপাদন পাঁচ টন হওয়ায় তা উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় স্থানীয় পশ্চিম দেবপুর ধানের মাঠে কেবল পুষ্পায়ন হচ্ছে। ধান রোপণ করার মাত্র ১২২ দিনেরও কম সময়ে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এ জাতের ধান নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

যেসব জমি মাঝারি উঁচু বা উঁচু সেখানে এ ধান চাষ করে মধ্য কার্তিকেই ধান কাটার পর সেখানে রবিশস্য চাষ বিশেষ করে সরষে, আলু, শাক-সবজি করা সম্ভব হবে। সাধারণত এ এলাকায় স্থানীয় জাতের আমন ধান অনেক দেরিতে পাকায় নতুন কোনো ফসল চাষ করা যায় না। ফলে এলাকার বেশিরভাগ জমি এক ফসলি এবং তা বছরের সাত থেকে আট মাসই ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্রি ধান-৯০ একদিকে মাত্র চার মাসের মধ্যেই পাকে এবং ফলনও বেশি। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে অন্য জাতের ধান হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন সাড়ে তিন থেকে চার টন। সেখানে ব্রিধান পাঁচ টন পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।

সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, মুহুরী সেচ প্রকল্প বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপজেলার পশ্চিম দেবপুর গ্রামের স্থানীয় কৃষক মো. আবদুল হাই এর নিকট বিনামূল্যে ব্রি-ধান ৯০ বীজ প্রদান করা হয়। তিনি এবারই প্রথম এ জাতের ধান চাষ করেন। তার জমিতে ধান পাকার পর ফলন থেকে অনেকেরই এ ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। মো. আবদুল হাই তার এক বিঘা জমিতে ১৬ মণ ফলন পাওয়ায় খুবই খুশি। তিনি বলেন, এত অল্প জমিতে চিকন ধানের এভাবে ভালো ফলন পাবো ভাবতেই পারিনি। এলাকার অনেকেই বীজ চেয়েছেন। তিনি আগামী বছর আরো বেশি জমিতে এ ধান চাষ করবেন।

সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এডিবির অর্থায়নে সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প-মুহুরী সেচ প্রকল্প, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চফলনশীল আধুনিক জাত সম্প্রসারণে রোপা আমন ধান উৎপাদন প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ছাগলনাইয়ার মহামায়া ইউনিয়নে পশ্চিম দেবপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাপাউবো ফেনীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন।

সেচ ব্যবস্থাপনা অপারেটর আইএমআইপি-এমআইপি বাপাউবো ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এস এম আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম ও বাপাউবো ফেনীর উপ-প্রধান সম্প্রসারণ অফিসার মো. মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফাকাত রিয়াদ, পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশন এমআইপি ফেনীর সেক্রেটারী আব্দুল হাই ভূঁইয়া, কৃষক মো. আবদুল হাই। এ সময় স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার মজুমদার জানান, এ ধানের চাল বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। কেবল এই এলাকাতেই নয়, সারাদেশে আগাম আমন ধান হিসেবে ব্রি ধান-৯০ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে এমনটাই আশা করেন তিনি। গত ২০১৯ সালে এ জাতটি মাঠ পর্যায়ে চাষে ছাড়পত্র দেয় বীজ প্রত্যায়ন বোর্ড।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: