বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নগরকান্দায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, চালক নিহত দেওয়ানগঞ্জে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরনে অবহিতকরণ কর্মশালা ধামইরহাটে নৌকা প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী কমলের বিশাল কর্মী সভা গাইবান্ধায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা হলে মেরাজ শিবগঞ্জে নদী ভাঙন আতঙ্কে গ্রামবাসী, পরিদর্শনে পাউবি বকশীগঞ্জে তিন করাত কল মালিককে জরিমানা নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মানিকগঞ্জে পুলিশ সুপারের সাথে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতবিনিময় সভা দেড়বছর পর যাত্রা করলো বেনাপোল এক্সপ্রেস ক্যামব্রিয়ানের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি কৃষি জমি নষ্ট করে বালু ভরাট চলমান উন্নয়নকে প্রশ্নের মুখে শিবপুরে দরিদ্র কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা লেডি বাইকার রিয়াকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট দশ বছরে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘অতিশয় বৃহৎ সংগ্রামের’ জন্য প্রস্তুত হতে বললেন কিম এবার প্রতিবেশী ভারতে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হামলায় পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা আগামী তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে- আবহাওয়া অধিদপ্তর কমলো এলপি গ্যাসের দাম

গোয়ালন্দে শেষ পরিক্ষায় অংশ নেয়া হলো না এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্তার

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

এসএসসি পরিক্ষার্থী শান্তা খাতুন (১৬) “স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে পরিবারের বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে অসময়ে বসতে হয় বিয়ের পিরিতে। প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে বিয়ের পরেও পড়ালেখা করে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবারের এসএসসির পরিক্ষায়। কিন্তু বিধিবাম! শান্তা এ বছর গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুল হতে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথমে দুটি পরিক্ষা দিতে পারলেও গত সোমবার বাচ্চা জন্ম নেয়ায় মঙ্গলবারের (২৪ নভেম্বর) শেষ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। শান্তার বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। পেশায় একজন হোমিও চিকিৎসক। বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নুরু মন্ডলের পাড়ায়।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন আলাপকালে শান্তার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৯ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শান্তাকে বিয়ে দেই। কিছু বখাটে ছেলের উৎপাত হতে রক্ষা পেতে এবং আমার মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে অসময়ে আমরা তাকে এ বিয়ে দেই। বিয়ের পরও সে প্রচন্ড ইচ্ছে শক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই ওর গর্ভে সন্তান আসে। অনেক কষ্ট করে সে গত ১৫ ও ২১ নভেম্বরের ইতিহাস ও ভূগোল পরিক্ষায় অংশ নেয়। এরপর ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেলে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতে প্রচন্ড শারিরীক দূর্বলতার কারণে ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শেষের ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি।

এসময় আলাপকালে শান্তা জানান, আমার খুব ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা করার। এসএসসি পাশ করে কলেজে পড়ার। কিন্তু তা আর হলো না। খুব ইচ্ছে ছিল শেষ পরিক্ষাতেও অংশ নেই। কিন্তু শারিরীক দূর্বলতা ও পরিবারের লোকজনের বাঁধায় তা আর হলো না। তবে চেষ্টা করবো আগামীবার আবারো পরিক্ষায় অংশ নেয়ার। কিন্তু পারব কিনা জানি না। আপাতত আমার মেয়েই আমার সব। ওকে ঘিরেই আমার সকল স্বপ্ন। গোয়ালন্দ উপজেলায় এসএসসির কেন্দ্র সচিব মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলা হতে ১হাজার ১শ ৪৫জন পরিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ফরম পূরণ করার পরও ১৮জন ছাত্রী পরিক্ষায় অংশ নেয়নি। আমার ধারণা এদের প্রায় সবাই শান্তার মতো বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়।

গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ পরিদর্শন করতে গিয়ে জানতে পারি বাচ্চা জন্ম নেয়ায় শান্তা নামের ওই পরিক্ষার্থী শেষ পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা চেষ্টা করছি বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে। কিন্তু নানা কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: