সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওমিক্রন ঠেকাতে যেসব নির্দেশনা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রেসিডেন্টের আহবান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ। ভিনিসিয়ুসের রকেটে শীর্ষে রিয়াল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জকোভিচের খেলা নিয়ে শংকা রায়পুরায় ১২ ইউপি নির্বাচনে ৫ টিতে নৌকা ও ৭ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই কমলো প্রচন্ড তুষারপাতে টটেনহ্যাম বনাম বার্নলির ম্যাচ বাতিল পিএসজির বড় জয়, ইনজুরিতে নেইমার রাণীনগরে ৫ লাখ টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক নওগাঁয় ৩৫০ জন দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি প্রতিবন্ধি অসহায় মায়ের আবেদন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৩ ইউপিতে ১৮ আওয়ামীলীগ এবং ১৫ বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ ই সেবা ক্যাম্পেইন-২০২১ এর উদ্বোধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে’ ইমামদের সাথে প্রশিক্ষণ কর্মশালা রায়পুরায় বিউটি পার্লারের ভিতর থেকে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার চকরিয়ায় ইউপি নির্বাচনে পুনরায় ভোট গণনার দাবীতে প্রার্থীর পক্ষে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মহসিন মিয়া শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত মির্জাগঞ্জে ৬ ইউপিতে ২টিতে বিদ্রোহী ও ৪টিতে নৌকা প্রার্থী বিজয়ী ফেনীতে ছয় হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও চক্রান্তে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও চক্রান্তে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির যে কোন অপতৎপরতা ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

আগামীকাল ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) এক বাণীতে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এই অপশক্তির যে কোন অপতৎপরতা ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ধারা সমুন্নত রাখা এবং সকলে মিলে জাতির পিতার স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। কারাগারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। বর্তমান প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেও আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড ছিল জাতির পিতাকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যার ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জাতীয় চার নেতার জঘন্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি ও দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। আত্মস্বীকৃত খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে পুরস্কৃত করে। বিদেশে দূতাবাসে চাকুরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বিপুল অর্থের মালিক করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। ‘৭৫-এর সেই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতারা পরবর্তী ২১ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। অবৈধ শাসকরা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করে। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এই হত্যার বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। দেশের জনগণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লে¬খযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা সপরিবারে জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার মধ্যে দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।’


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: