বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধামইরহাটে নৌকা প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী কমলের বিশাল কর্মী সভা গাইবান্ধায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা হলে মেরাজ শিবগঞ্জে নদী ভাঙন আতঙ্কে গ্রামবাসী, পরিদর্শনে পাউবি বকশীগঞ্জে তিন করাত কল মালিককে জরিমানা নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মানিকগঞ্জে পুলিশ সুপারের সাথে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতবিনিময় সভা দেড়বছর পর যাত্রা করলো বেনাপোল এক্সপ্রেস ক্যামব্রিয়ানের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি কৃষি জমি নষ্ট করে বালু ভরাট চলমান উন্নয়নকে প্রশ্নের মুখে শিবপুরে দরিদ্র কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা লেডি বাইকার রিয়াকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট দশ বছরে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘অতিশয় বৃহৎ সংগ্রামের’ জন্য প্রস্তুত হতে বললেন কিম এবার প্রতিবেশী ভারতে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হামলায় পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা আগামী তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে- আবহাওয়া অধিদপ্তর কমলো এলপি গ্যাসের দাম অভিবাসীর সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ ষষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জে তথ্য অধিকারের গুরুত্ব নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত

খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ফেনীর মৎস্য খামারিদের

ফেনী প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

ফেনীতে দিন দিন মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া ও অধিক লাভের আশায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৎস্য খামারির সংখ্যা। অধিকাংশ বেকার যুবক এ পেশায় নিজেকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু চলমান সময়ে মাছের খাবারের দাম, ওষুধ, লবণ, চুনসহ চাষের প্রয়োজনীয় সব উপকরণের দাম বাড়লেও বাড়েনি মাছের বিক্রয় মূল্য। খরচ ও আয়ের সামঞ্জস্যতা না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ফেনী জেলার মৎস্য চাষী ও খামারীদের। মৎস্য চাষীরা জানান, গত দুইমাসে তিন দফায় প্রতি কেজি মাছের খাদ্যে ৫ টাকা করে বেড়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য খরচের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের তুলনায় খরচ বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু সেই অনুযায়ী বাজারে মাছের দাম বাড়েনি বরং ক্রমান্বয়ে মাছের দাম কমছে।

ফেনী জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানায়, জেলায় মৎস্যচাষীর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। প্রতিবছর ফেনীতে ৩৪ হাজার টনের বেশি মাছ চাষ হয়। এতে খাদ্যের প্রয়োজন হয় প্রায় ৫০ হাজার টন। তবে গত বছরগুলোর তুলনায় এবছর খাবারের দাম অনেক বেশি। এতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে কয়েকগুন। মৎস্যচাষী পরশুরামের পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন সাজেল জানান, তার প্রায় ৬৮টি পুকুর এবং দিঘী রয়েছে। তিনি মৎস্য চাষে একবার জেলার শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারনে গত দুবছরে তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকার উপরে লোকসান গুনেছেন। তার দাবী, মাছ চাষ কৃষির অন্তর্ভুক্ত হলেও পুকুর সেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় বাণিজ্যিক হারে।

একই সঙ্গে মাছের খাবার, ওষুধ, লবণ, চুনসহ মাছ চাষের প্রয়োজনীয় সব উপকরণের দাম বাড়লেও বাড়েনি মাছের বিক্রয়মূল্য। এতে মাছ বিক্রিতে লাভবান হওয়াতো দুরের থাক উল্টো লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম বেড়েছে দেড়শ টাকা করে। কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে করোনাকালীন প্রণোদনাসহ নিয়মিত প্রণোদনা এলেও সেগুলো লুটপাট করে খাচ্ছে একটি চক্র।আরেক মৎস্য চাষী মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ছয় একর পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। করোনার পরিস্থিতির আগে লাভবান হলেও বর্তমানে খাদ্যের দাম ও আনুসাঙ্গিক প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ অনেক বেশি বেড়েছে।

মমতা এগ্রো এন্ড হ্যাচারির মালিক আবদুল্লাহ জানান, উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গত বছর থেকে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যবসায় আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণ বড় সমস্যা তৈরি করছে। স্থানীয় খাবার ব্যবসায়ী দাউদ পোল্ট্রির স্বত্বাধিকারী নাজমুল করিম আলমগীর বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মালামালের মূল্য বেড়েছে। এতে কিছু করার নাই তাদের।

নাহিদ পোল্ট্রি খামারী জানায়, প্রতিটি কোম্পানী তাদের খাবারের দাম বৃদ্ধি করেছে। কারন জানতে চাইলে সেসব কোম্পানি বলছে তেলসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির স্বীকার। কিন্তু সরকার যদি সঠিকভাবে মনিটরিং করতো তাহলে হয়তো এমনটি হতো না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন জানান, খাবারের দাম বৃদ্ধির ফলে চাষীদের উৎপাদন খরচ কয়েকগুন বেড়েছে সঠিক। কিন্তু তার তুলনায় মাছের দাম বাড়েনি দীর্ঘ ১০ বছরেও। এ কারনে মাছ চাষীরা ক্ষতির আশংকা করছেন। তবে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন সভা সেমিনারে খাবারের দাম কমানো ও নিয়ন্ত্রনে রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: