মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে এসপি’র হস্তক্ষেপে থানায় মামলা! যশোরে চোরাই ইজিবাইকসহ আটক ৪ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই দেশের সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য দায়ী: ইনু মানিকগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন চকরিয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার ডিমলায় নিখোঁজের পাঁচদিন পর তিস্তা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা বিএনপি’রঃ নানক বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ইয়েন অনুদান দিচ্ছে জাপান এ মাসে প্রবাসী আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়ালো জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ডের আবেদনের সময় বাড়লো ভোলাহাটে ভেজাল আইসক্রীম কারখানায় র‌্যাবের অভিযান ৫৯ বিজিবি’র শিয়ালমারা সীমান্তে অভিযান ॥ ফেন্সিডিলসহ আটক ১ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৯০ জন রোগী ভর্তি অপারেশন শেষে আইসিইউতে খালেদা জিয়া উমরাহ পালনে আর ১৪ দিনের অপেক্ষা নয় ভারতের কেরালা রাজ্যে বন্যায় প্রাণহানিতে মোমেনের শোক বহিস্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ রৌমারীতে সার সংকটে কৃষক বিপাকে মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১, আহত ২

কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বেঁড়া দিয়ে চাষাবাদ

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বেঁড়া দিয়ে চাষাবাদ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রায়পুর কাচারীকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ দখল করে ধান ও কলা গাছ রোপন করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের জমি দাবী করেছেন। আর শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নে রায়পুর কাচারীকান্দি গ্রামের ইসমাঈস সরদার ও তার স্ত্রী ময়মুন নেছা ২২ শতাংশ এবং মনির সরদার ১১ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দলিল করে দেয়। বিদ্যালয়ের জমিদাতা হিসেবে মনির সরদার দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মনির সরদারকে শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে সভাপতি থেকে বাদ দেয়া হলে তার আপন ভাই ছোট আক্তার সরদার বিদ্যালয় মাঠ দখল করে ধান ও কলা গাছ রোপন করে। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর মাঠে ধান ও কলাগাছ রোপনের ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে জমিতে মাটি সীমানা দিচ্ছেন কিছু ব্যক্তি। মাটি কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্তার সরদার বলেন, ‘আমার জমিতে আমি মাটি কাটতেছি। স্কুলে যদি জমি পায় নিবে। আমার ভাই দলিল দিলে তারটুকু দিতে পারে, আমাদের অন্য ভাই বোনদের জমি দলিল দিতে পারে না। ১৪ শতাংশ জমির ১১ শতাংশ জমি আমার ভাই দলিল দিতে পারে না। কারণ আমারা পাঁচ ভাই-বোন। তারটুকু দিতে পারে আমাদেরটা না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে তিনি ইউএনও স্যারের কাছে নিয়ে গিয়ে দরখাস্ত দিতে বললে। আমি সেখানেও দরখাস্ত দেই। তখন ইউএনর স্যার তহশিলদারকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং দলিলপত্রসহ যাবতীয় কাগজ নিয়ে স্যারের কাছে যেতে বলে।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সাবেক সভাপতি মনির সরদার জমিদাতা হয়েও বিদ্যালয়ের জমি তার ভাই দিয়ে দখল করে আছে। কিছু বললেই লোক পাঠায় মারতে। আবার মামলা করার হুমকি দেয়। আমি এর সঠিক বিচার ও সমাধান চাই। যাতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বর্জায় থাকে।’
অভিযোগের বিষয় বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির সরদার বলেন, ‘আমি ১১ শতাংশ জমির দলিল দিয়েছি, সেই দলিল ঠিকে নাই। এখন আইনে যা হওয়ার তাই হবে। আমার ভাইদের জায়গায় তারা কি করলো, সেটা তাদের বিষয়, আমার নয়। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
এব্যাপারে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখে আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন দিন-তারিখ ঠিক করে জায়গাটা পরিমাপ করলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।’
এব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রায়পুর কাচারীকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসেছিলেন। আমি তহশিলদারকে পাঠিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করেছি এবং বিদ্যালয়ের দলিলপত্র আনতে বলেছি। যারা দাবী করে তাদেরও দলিলপত্র আনতে বলেছি। কার কি সত্ত্ব আছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিবো। আপাতত বেড়া ছাড়া যে স্থান আছে, ওখান দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে বলা হয়েছে।’


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: