মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে এসপি’র হস্তক্ষেপে থানায় মামলা! যশোরে চোরাই ইজিবাইকসহ আটক ৪ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই দেশের সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য দায়ী: ইনু মানিকগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন চকরিয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার ডিমলায় নিখোঁজের পাঁচদিন পর তিস্তা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা বিএনপি’রঃ নানক বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ইয়েন অনুদান দিচ্ছে জাপান এ মাসে প্রবাসী আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়ালো জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ডের আবেদনের সময় বাড়লো ভোলাহাটে ভেজাল আইসক্রীম কারখানায় র‌্যাবের অভিযান ৫৯ বিজিবি’র শিয়ালমারা সীমান্তে অভিযান ॥ ফেন্সিডিলসহ আটক ১ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৯০ জন রোগী ভর্তি অপারেশন শেষে আইসিইউতে খালেদা জিয়া উমরাহ পালনে আর ১৪ দিনের অপেক্ষা নয় ভারতের কেরালা রাজ্যে বন্যায় প্রাণহানিতে মোমেনের শোক বহিস্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ রৌমারীতে সার সংকটে কৃষক বিপাকে মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১, আহত ২

ইলিশ শূন্য ঘাটে ফিরছে শরণখোলার জেলেরা

শরনখোলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
ইলিশ শূন্য ঘাটে ফিরছে শরণখোলার জেলেরা

ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না বাগেরহাটের শরণখোলার জেলেরা। একপ্রকার খালি ট্রলার নিয়েই ঘাটে ফিরছে তারা। মৌসুমের পাঁচ মাস পার হলেও এ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেনি কোনো মহাজন। চলতি সপ্তাহে সাগর থেকে উঠে আসা একেকটি ফিশিং ট্রলারে মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। এতে তেল খরচও ওঠেনি মহাজনদের। লাখ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছেন জেলের-মহাজনরা। সবার চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। মৎস্য পল্লীতেও নেই তেমন কর্মচঞ্চলতা।

এফবি মুন্না ট্রলারের মাঝি মো. মিজান মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মোরা গহীন সমুদ্রে মাছ ধরি। গত মঙ্গলবার সাগর থেইকা উইঠ্যা আইছি। এই ট্রিপে খরচ ওইছে পৌনে দুই লাখা টাহা। যে মাছ পাইছি তা বেইচ্যা নামছে মাত্র ২২ হাজার টাহা। ট্ররালে মোরা মাঝি-মাল্লা লইয়া ১৭ জন। অ্যাহন মহাজনরে কি দিমু আর মোরাই বা কি নিমু!

শরণখোলা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার ফরাজী বলেন, সাগরের যে অবস্থা তাতে জেলে-মহাজনদের এবার ভিক্ষার ঝুলি নিয়া রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় নাই। সাগরে কোনো মাছ নাই। একেক জন ট্রলার মালিক ও আড়তদার আট লাখ, দশ লাখ টাকা কইরা লোকসানে আছে। সামনের গোনে সাগরে নামার মতো পুঁজিও অনেকের কাছে নাই।

দেলোয়ার ফরাজীর অভিযোগ, ইলিশের ভরা মৌসের সময় ৬৫ দিনের অবরোধ থাকায় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। ভারতীয় জেলোর সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে মাত্র ২০-২৫ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অবরোধের সময় মাছ না ধরলে সেই মাছটা এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ত। যার ফলে, দেশীয় জেলেরা এখন লোকসান গুনছে।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বাগেরহাট জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলায়তেই রয়েছে তিন শতাধিক ফিশিং ট্রলার। এবার কোনো ট্রলারেই ভালো ট্রিপ হয়নি। তেল খরচও উঠছে না অনেকের।

আবুল হোসেন জানান, বৈশাখ মাসে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়। চলে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মৌসুমের পাঁচ মাস চলে গেছে। এর মধ্যে আবার দুই মাস (৬৫ দিন) গেল অবরোধে। শুরুর একমাসে কয়েক দফা দুর্যোগে সাগরে জাল ফেলা যায়নি। তখন মাছও তেমন পড়েনি। আর অবরোধ শেষ হওয়ার পরও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দুই ট্রিপ হয়েছে। তাতে চালান ওঠেনি কোনো মালিকের।

ভারতের জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে এই মৎস্যজীবী নেতা বলেন, এখনো ভারতের জেলেরা আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারতে একই সময়ে অবরোধ না দিলে আমাদের জেলেরা ইলিশে মার খেতেই থাকবে। দেশীয় জেলেদের রক্ষা করতে এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।
শরণখোলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস,এস পারভেজ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এবং অনেক জায়গায় সাগরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে ইলিশ মাছ কম পরতে পারে।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: