শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘানায় ভয়াবহ বিস্ফোরনে নিহত ১৭ দুই সপ্তাহের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরামপুরে মাদক মামলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য গ্রেফতার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলিতে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত নীলফামারীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নারী শ্রমিক নিহত পটুয়াখালীতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বাই-সাইকেল বিতরন গৌরীপুরে বিধু ভূষণ দাস স্মরনে আওয়ামী লীগের শোকসভা অনুষ্ঠিত ব্যাংকের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করে সার্কুলার জারি ইভ্যালি ইস্যুঃ হাইকোর্টে তাহসানের আগাম জামিন মানিকগঞ্জে বড়ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুদন্ডাদেশ ফেনীতে প্রতারণায় সহায়তার অভিযোগে ৩ জনের কারাদন্ড জোর করে ওষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট, আদালতে স্বীকারোক্তি মেহেরপুরে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি আটক এখন থেকে রাতেও নৌযান চলবে ‘বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী ক্যানেলে’ মেসিকে বাদ দিয়েই আর্জেন্টিনা দল ঘোষণা আফগানিস্তানে চাকরি হারিয়েছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ আইপি টিভি-ইউটিউবে সংবাদ প্রচার নীতিমালা বিরোধী: তথ্যমন্ত্রী শেরপুরে রাস্তার পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ! পটুয়াখালীর দুমকিতে মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন বোনকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায়, ভাইয়ের পা ভেঙে দিল বখাটে

আবরার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে

রিপোর্টারের নাম
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন
আবরার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আজ এ কথা জানিয়েছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য হাই কোর্টে পাঠাতে হয়। এছাড়া এ মামলার রায় অনুযায়ী, আসামিরা আইন অনুসারে হাই কোর্টে আপিল করতে পারবেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর রায় দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল (২৪), মো. অনিক সরকার ওরফে অপু (২২), মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত (২৩), ইফতি মোশাররফ সকাল (২০), মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (২৩), মো. মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ (২০), মো. মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ (২১), খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম ওরফে তানভির (২১), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (২১), মো. শামীম বিল্লাহ (২১), মো. সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত (২১), মুনতাসির আল জেমী (২০), মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (২২), এস এম মাহমুদ সেতু (২৪), সামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (২০), এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম (২০) (পলাতক), মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মন্ডল প্রকাশ জিসান (২২) (পলাতক), মুজতবা রাফিদ (২১) (পলাতক)।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- অমিত সাহা (২১), ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১), মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩) ও মো. মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা (২১)।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরারকে বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

অভিযোগপত্রে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ২১টি আলামত ও আটটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের পর ২০২০ সালের ১৫ মার্চ মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তরের আদেশ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। বিচার চলাকালে আবরারের বাবাসহ মোট ৪৬ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।

এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ২১ জনকে তদন্ত চলাকালে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু ছাড়া বাকি সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

এই মামলার ৮ আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

বিচার শুরুর প্রাক্কালে মোর্শেদ অমত্য ইসলাম নামে পলাতক এক আসামি পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। এখনও পলাতক রয়েছেন আরও তিন আসামি। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এর মধ্যে মোস্তবা রাফিদের নাম এজাহারে ছিল না।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাকে বর্বরোচিতভাবে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। সরকার ঘটনায় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারে পদক্ষেপ নেয়।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: