রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুরের সালথায় ইমাম বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা একনজরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৬ দলের খেলোয়াড় তালিকা অবশেষে নগরীতে নামলো স্বস্তির বৃষ্টি সৌদি জোটের হামলা: ইয়েমেনে নিহত ১৬০ ডেঙ্গুতে চলতি বছর আক্রান্ত ২১ হাজার ২শ ছাড়াল প্রতিদিন টিকা পাবে ৪০ হাজার শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে রাশিয়ার ধাওয়া টেকসই স্যানিটেশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত প্রয়াসের আহ্বান ‘সরকার সবার জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর’ ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের চেষ্টায় আ.লীগের এজেন্টরা জড়িত: ফখরুল দ্রব্যমূল্য থেকে মানুষের চোখ সরাতেই কুমিল্লার ঘটনা: মান্না এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়: সাকি প্রচণ্ড তাপে পুড়ছে দেশের ১৮ অঞ্চল সকালে দলের সঙ্গে যোগ দিলেন সাকিব রুহিয়া থানা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গোবিন্দগঞ্জে শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন গাইবান্ধায় বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৫

আফগান বাহিনী কেন তালেবানের হামলায় দিশেহারা?

রিপোর্টারের নাম
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
আফগান বাহিনী কেন তালেবানের হামলায় দিশেহারা?

আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র যতো টাকা খরচ করেছে তার চেয়ে অন্তত ৬০ শতাংশ বেশি খরচ করেছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী গঠনে। গত বছর পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর আফগান সেনাবাহিনীকে বাড়তি ৩৩০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মিলিয়ে কাগজে কলমে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। এছাড়া একটি বিমান বাহিনীও রয়েছে। আফগান কম্যান্ডো সেনা ইউনিট নিয়ে গর্বিত দেশটির সরকার। এই বাহিনীর ক্যাডেটদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এমন একটি ‘সুসজ্জিত’ বাহিনীর দুর্বলতা প্রকাশ পেতে থাকে গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন আমেরিকার সংগে শান্তি চুক্তির পর তালেবান অভিযান জোরদার করে।

মে মাস থেকে তালেবানের শহর দখলের ঝটিকা অভিযান শুরুর পর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সেই দুর্বলতা এখন কাবুল সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গত চার বছর ধরে আফগানিস্তান মার্কিন বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল স্কট মিলার আফগান সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে তাঁর সন্দেহ চেপে রাখতে পারেননি। গত জুনে তিনি বলেন, আফগানিস্তান খুব সম্ভবত চরম বিশৃঙ্খল গৃহযুদ্ধের দিকে এগুচ্ছে।

একইমাসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগগুলোর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কাবুল সরকারের পতন হতে পারে।

অর্থাৎ আফগান সেনাবাহিনী পুরো দেশ তো দূরের কথা কাবুলের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে পারবে কি-না তা নিয়ে আমেরিকানরাও সন্দিহান।

গত দুই মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের প্রায় চারশোটি জেলার অর্ধেকই দখল করে নিয়েছে তালেবান। দেশটির পাঁচটি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তালেবান দাবি করছে, আফগানিস্তানের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। সেটা অতিরঞ্জিত হলেও আমেরিকানরাই স্বীকার করছে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এখন তালেবানের দখলে।

ধারণা করা হচ্ছে, গ্রীষ্ম মৌসুম শেষের আগেই ৩৪টি আফগান প্রদেশের মধ্যে ১৬টি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে আফগান সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা কতটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার খবর প্রতিদিনই বেরুচ্ছে। এমনকি পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতেও এসব খবর প্রকাশ পাচ্ছে।

শত শত সৈনিক লড়াই না করেই তালেবানের হাতে অস্ত্র, যানবাহন, রসদ তুলে দিয়ে ইউনিফর্ম খুলে চলে যাচ্ছেন। তারা তালেবানকে আলিঙ্গন করছেন। তালেবান সদস্যরা তাদের পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মাসখানেক আগে এক হাজারেরও বেশি সৈন্য দলত্যাগ করে তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছে।

এসব আত্মসমর্পণের ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। তালেবান নিজেদের প্রোপ্যাগান্ডা চ্যানেলগুলোতে এসব ফুটেজ ছড়াচ্ছে। এই তথ্য যুদ্ধেও তারা জিতে যাচ্ছে। এর ফলে শহরের বাইরে যেসব সৈন্যরা বিভিন্ন ফাঁড়ি, তল্লাশি চৌকি পাহারা দিচ্ছে তারা আরও বেশি অসহায় বোধ করছেন।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একজন সুপরিচিত বিশ্লেষক ইসলামাবাদে সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, আফগান সেনাবাহিনীর পেছনে আমেরিকা অনেক পয়সা খরচ করেছে, কিন্তু তাদের পেশাদারিত্ব এখনও দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কেন তাদের এত অসহায় লাগছে? জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, তালেবানের মত একটা অত্যন্ত পটু, অভিজ্ঞ লড়াকু গোষ্ঠীর সংগে যুদ্ধে টিকে থাকাতে যে সরঞ্জাম, রসদ, মনোবল প্রয়োজন তা আফগান সেনাবাহিনীর নেই।

সেই সংগে সেনাবাহিনীতে জাতিগত বিরোধও রয়েছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বেশিরভাগই পশতুন জাতিগোষ্ঠীর, কিন্তু সিনিয়র অফিসারদের সিংহভাগ জাতিগত তাজিক। এ নিয়েও একটা রেষারেষি, মনোমালিন্য সবসময় রয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হল- আফগানিস্তানের শাসক এলিটদের মধ্যে যে অব্যাহত বিভেদ সেটি বিশ্বের যেকোনো কোনো জাতীয় সেনাবাহিনীর মনোবলের জন্য নেতিবাচক।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব পর্যায়েও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কাগজে কলমে আফগান সেনাবাহিনীর যে সংখ্যা দেখানো হয়, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে কম এবং এটি ওপেন সিক্রেট। তালিকায় ভুতুড়ে সৈনিকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র কমান্ডারদের পকেটে যায়।

এমন খবরও দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় বেরিয়েছে যে অনেক যুদ্ধাহত সেনা সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা, এমনকি খাবারের অভাবে মারা গেছেন। অনেক সময় লড়াইতে নিহত এবং জখম সহযোদ্ধাদের হাসপাতালে নেওয়ার যানবাহন পর্যন্ত সৈন্যরা পান না। এসব নিয়ে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

পাশাপাশি, এটাও সত্যি যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে মাত্রায় প্রাণহানির শিকার আফগান সেনাবাহিনী ও পুলিশ হয়েছে তা যে কোনো দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মনোবলের জন্য খারাপ। ২০০১ সালে থেকে তালেবানের সাথে লড়াইতে যেখানে ৭ হাজার ন্যাটো সৈন্য মারা গেছে, সেখানে ২০০৭ সাল থেকে আফগান পুলিশ ও সেনা সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ৭৩ হাজার। মৃত্যুর এই ভীতি আত্মসমর্পণের প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দূরবর্তী বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিয়মিত রসদ সরবরাহ এবং সৈনিকদের মনোবল ধরে রাখার জন্য দক্ষ একটি বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি তালেবানের মাথায়ও আছে। এই কারণে তারা আফগান বিমান এবং হেলিকপ্টার টার্গেট করছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বিমান ও হেলিকপ্টার চালককে তারা হত্যাও করেছে।

তাছাড়া, এসব হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধবিমান সচল রাখার জন্য যেসব বিদেশি টেকনিশিয়ান আফগানিস্তানে কাজ করেন তারা আর থাকবেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ফলে, আফগান বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি এতই নাজুক হয়ে পড়েছে যে উপায়ান্তর না দেখে কাবুলের সরকার এখন তালেবান বিরোধী বিভিন্ন উপজাতীয় মিলিশিয়াদের সাহায্য চাইছে।

সম্প্রতি মার্কিন রেডিও এনপিআরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন জেনারেল, যিনি আফগান সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে কয়েকবছর আফগানিস্তানে ছিলেন, বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো কেক পুরোপুরি বেক হওয়ার আগেই ওভেন থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আসলে বুঝাতে চেয়েছেন আফগান সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি একটি পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার আগেই তাদের ওপর লড়াইয়ের দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে আমেরিকানরা ফিরে আসছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।


অন্যান্য সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: